
মোস্তফা হোসেন বাবলু:
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের জানখাঁ নীলকুঠির আর্দশ গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর মালিকদের চলাচলের রাস্তা নেই। প্রকল্প সংলগ্ন বিভিন্ন মালিকানা জমির ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে উপকারভোগীদের। এতে নানা বাধা ও ভুগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। স্থানীয় জমির মালিকরা প্রায় সময় যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেয়।
উপজেলা প্রশাসন ও উপকারভোগী সূত্র জানায়, সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের জানখা গ্রামে কপোতাক্ষ ঘেষে ২২ শতাংশ জমিতে ১০টি পরিবারকে দুই কক্ষবিশিষ্ট আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। ২০২১ সালের জুনে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ঘর হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৪০ জন বসবাস করছেন। এই নীল কুঠির আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ, পানি, শৌচাগার ও রান্নাঘরের সুবিধা রয়েছে। তবে আশ্রয়ণের ঘর থেকে মূল সড়কে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। ফলে এখানে বসবাসকারী মানুষ আশপাশের ও ফসলি জমির উপর দিয়ে যাতায়াত করছেন। প্রায় দিনই সে সব জমির মালিকরা তাদের চলাচলে বাধা দেন ও গালমন্দ করেন। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন উপকারভোগীরা।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক বাসিন্দা বলেন, আমি ভ্যান চালায় আমার অন্যের জমির উপর দিয়ে যেতে হয়। আর একজন বিধবা নারী আমি লোকের বাসার কাজ করি। আমার প্রতিদিন কাজে বের হতে হয়। অন্যের ফসলের জমির মধ্য দিয়ে আসা-যাওয়া করলে জমির মালিকরা গালাগালি করে। এতে আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চলাচলের জন্য রাস্তা দরকার। রাস্তার জন্য আমরা চেয়ারম্যান মেম্বরদের কে জানিয়েছি,কিন্তু এখনো আমাদের রাস্তা হলো না।’উপকারভোগী নাজিরা খাতুন, পাতা খাতুন ,রিক্তা খাতুন, সালমা ও রবিউল জানালেন তাদের ক্ষোভের কথা।তারা বলেন আমাদের একটা কবরস্থান নেই।এতে আমরা খুব খুশি না। তবে রাস্তাঘাট না থাকায় আমরা এখন জেলখানার মতো বসবাস করছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পটির সমস্যার কথা নিয়ে বা দাবী-দাওয়া নিয়ে আমার কাছে কেউ আসেনি। এ সমস্যার কথা জানিনা,তবে তারা আমার কাছে আসলে তাদের বিষেয়ে কথা বলব এবং তাদের পাশে থাকব।