বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
২৩ বছর ধরে বেতন নেই শিক্ষক হামিদের, সংসার চলে কাঁঠালপাতা বেচে
২৩ বছর ধরে বেতন নেই শিক্ষক হামিদের, সংসার চলে কাঁঠালপাতা বেচে

২৩ বছর ধরে বেতন নেই শিক্ষক হামিদের, সংসার চলে কাঁঠালপাতা বেচে

দৈনিক নতুন সূর্য ডেস্ক: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা শিক্ষক আবদুল হামিদ (৫৮)। কাঁঠালপাতা বিক্রি করে চলে তার সংসার। প্রায় দুই যুগ ধরে তিনি দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে কলাবাগান এলাকায় কাঁঠালপাতা বিক্রি করছেন। কাঁঠালপাতা বিক্রি করে চলে তার সংসার। প্রায় দুই যুগ ধরে তিনি দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে কলাবাগান এলাকায় কাঁঠালপাতা বিক্রি করছেন।শিক্ষক হয়ে কাঁঠালপাতা বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল হামিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোনো বেতন পান না তিনি। দিন শেষে কাঁঠালপাতা বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়ে চলে তার সংসার।

শিক্ষক আবদুল হামিদের বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে। তিনি ২০০২ খ্রিষ্টাব্দের ১ জুন উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যালয়ে কৃষি বিষয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। যোগদানের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ৯ বার এমপিওর (মান্থলি পে–অর্ডার) জন্য আবেদন করেছেন। তবে প্রতিবারই তার আবেদন বাতিল হয়েছে। দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে তিনি ওই বিদ্যালয়ে বেতন ছাড়াই পাঠদান করে যাচ্ছেন। সংসার চালাতে বিকল্প পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন কাঁঠালপাতার ব্যবসা। এ থেকে তার প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আআবদুল হামিদ বলেন, দুই বছর পর তিনি চাকরি থেকে অবসরে যাবেন। শেষ সময়ে একজন শিক্ষকের স্বীকৃতিস্বরূপ বেতন পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন তিনি। গত অক্টোবর মাসে শেষবারের মতো আবারও এমপিওর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছেন।সহকারী শিক্ষক আবদুল হামিদ ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ৬ অক্টোবর দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে যোগ দেন। চাকরির পাশাপাশি তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর অব অ্যাগ্রিকালচারাল এডুকেশন (বিএজিএড) প্রোগ্রামে পড়াশোনা করতে থাকেন। ২০০২ খ্রিষ্টাব্দের ১ জুন অফিস সহকারীর পদ ছেড়ে একই বিদ্যালয়ে কৃষি বিষয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং কোর্স সম্পন্ন করে সনদ নেন। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে এমপিওর জন্য আবেদন করলেও বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকদের ৩০ শতাংশ নারী কোটা না পূরণ হওয়ায় সেটি বাতিল হয়। পরের বছরও এনটিআরসিএ নিয়োগবিধির জটিলতায় তার আবেদনটি গৃহীত হয়নি। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দের পরিপত্রে বলা ছিল, বিএজিএড প্রোগ্রামের ৬ সেমিস্টার সম্পন্নকারী প্রার্থী কৃষি বিষয়ে নিয়মিত সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ ও সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।

বিষয়টি নিয়ে আবদুল হামিদ আক্ষেপ করে বলেন, এমপিওর জন্য যতবার আবেদন করেছি, ততবারই কোনো না কোনো কারণ দেখিয়ে আমার আবেদন বাতিল করা হয়েছে। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দেও আবেদন করে হতাশ হয়েছিলাম। গত ৫ বছর আর আবেদন করিনি। এ বছর অক্টোবর মাসে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে আবারও আবেদন করেছি। প্রায় দুই যুগ ধরে বেতন পাচ্ছি না।বিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শমসের আলী মণ্ডল বলেন, গত অক্টোবর মাসে আবদুল হামিদের এমপিওভুক্তির সব কাগজপত্র যাচাই করে অনলাইনে আবেদন পাঠানো হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক থেকে এখনো কোনো চিঠি আসেনি। সব ঠিকঠাক থাকলে এবার তাঁর চাকরি এমপিওভুক্ত হবে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।