কামরুল হাসান:
কলারোয়ায় মাটিবাহী ট্রলি ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে কলেজছাত্রী সুরাইয়া খাতুন নিহতের ঘটনায় দোষীদের বিচার ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে সরকারি কলেজ শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা।
ঘটনার প্রতিবাদে ‘কলারোয়ার সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
১) কলারোয়া উপজেলায় সকল অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ করা,
২) মেইন সড়কে ট্রলি সহ ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন সকল যানবাহনের চলাচল বন্ধ করা এবং
৩) কলারোয়া সরকারি হাসপাতালে সকল চিকিৎসা সেবার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
তবে এসব দাবির বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শিক্ষার্থীরা সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে কলারোয়া সরকারি কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে।
এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার, কলারোয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি)সিরাজুস সালেহীন এবং কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এইচ এম শাহীন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। প্রশাসনের আশ্বাসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
উল্লেখ্য, শনিবার সকাল ৮টার দিকে কলারোয়া বেত্রবতী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মাটিবাহী ট্রলি চাপায় করুণ মৃত্যু হয় ছলিমপুর গ্রামের ওজিয়ার রহমান গাজীর মেয়ে কলেজ ছাত্রী সুরাইয়ার।
এ ঘটনায় ওইদিন দুপুরে সরকারি কলেজের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করে ইউএনও এবং থানার ওসিকে ৩ দফা দাবি জানিয়ে ৪৮ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে।
পারিবারিক এবং প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কলারোয়া সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া খাতুন প্রতিদিনের ন্যায় প্রাইভেট পড়ার জন্য একটি ইজিবাইক যোগে বাড়ি থেকে কলারোয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। সকাল ৮টার দিকে বেত্রবতী হাইস্কুলের সামনে আকস্মিকভাবে একটি মাটি বাহী ট্রলি রাস্তা অতিক্রম করার সময় ট্রলি-ইজিবাইকের সংঘর্ষ হয়। এসময় ইজিবাইকের যাত্রী সুরাইয়া খাতুন রাস্তায় ছিটকে পড়ে ট্রলির চাকায় পিষ্ট হন। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক তাকে কলারোয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা জানান তিনি আগেই মারা গেছেন।
ওই ঘটনায় দুপুরে কলারোয়া সরকারি কলেজের বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেন। পরে তারা থানার ওসি ও ইউএনও’কে ঘাতক চালককে আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, অবিলম্বে অবৈধ মাটিবাহী ডাম্পার-ট্রলি চলাচল বন্ধ ও কলারোয়া হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা দ্রুতকরণে ৩ দফা দাবি জানিয়ে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন। ইউএনও জেবুন নাহার ও ওসি এইচএম শাহীন শিক্ষার্থীদের দাবি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বস্ত করলে শিক্ষার্থীরা তাদের বিক্ষোভ স্থগিত ঘোষণা করে। তবে ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় সোমবার বিক্ষোভ ও অবরোধ করে শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের জনতা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৭ জানুয়ারি এই মাটিবাহী বাহনের চাপায় মারা যান শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মফিজুর রহমান। কাকতালীয়ভাবে সেদিনটিও ছিলো শনিবার। এর আগে মাটিবাহী বাহনে মারা যায় রায়টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।
