বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
নতুন রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে সাতক্ষীরা, থাকছে ৬টি স্টেশন
নতুন রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে সাতক্ষীরা, থাকছে ৬টি স্টেশন

নতুন রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে সাতক্ষীরা, থাকছে ৬টি স্টেশন

নিউজ ডেস্ক:

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শেষ জেলা সাতক্ষীরা। জিআই পণ্য হিসেবে খ্যাত হিমসাগর আম, রফতানিযোগ্য হিমায়িত চিংড়ি, সুন্দরবনের মধু এবং ভোমরা স্থলবন্দর ও বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জন্য জেলার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। দীর্ঘদিন রেল যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত থাকা এই জেলা অবশেষে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসতে যাচ্ছে।

যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) ও স্টেশন নির্ধারণসহ রেলওয়ের প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে খুশির জোয়ার বইছে।

দর্শনা–জগতি রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর তৎকালীন বাংলায় প্রথম রেলওয়ের সূচনা হয়। দীর্ঘ ১৬৪ বছর পর সেই রেল যোগাযোগের ইতিহাসে যুক্ত হতে যাচ্ছে সাতক্ষীরা।

যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সিংহভাগ অর্থ জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) থেকে ঋণ সহায়তার মাধ্যমে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ৬৫ কিলোমিটার রেলপথে নাভারন, কলারোয়া, মাধবকাঠি, সাতক্ষীরা ও ভোমরা স্থলবন্দরসহ মোট ৬টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এতে যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ভ্রমণ আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।

শিক্ষার্থী তানভীর রহমান ও দর্শনার্থী মোমিন হোসেন এবং সুফিয়া বেগম দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দাবি জানান। তারা বলেন, অল্প খরচে ও স্বল্প সময়ে যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান, তৌহিদুর রহমান ও শফিকুর রহমান জানান, রেললাইনটি চালু হলে পর্যটন ও বাণিজ্যে গতি বাড়বে, কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

বেনাপোল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. আয়নাল হাসান জানান, কয়েক দফা রেলের জমি নির্ধারণ, সয়েল টেস্ট এবং ৬টি স্টেশনসহ রেল প্রকল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটির দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা করেন তিনি।

নাভারন হয়ে সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত রেললাইন দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ মানুষ।

উল্লেখ্য, দর্শনা–জগতি রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে ১৮৬২ সালে উপমহাদেশে রেলওয়ের যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৮৮২–৮৪ সালের মধ্যে সেন্ট্রাল রেলওয়ে নামে পরিচিত বনগাঁ–যশোর–খুলনা ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ করা হয়। সে সময় বেনাপোল ও নাভারনে রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন করা হয়। ১৯১৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় কলকাতা থেকে নাভারন হয়ে সাতক্ষীরার মধ্য দিয়ে সুন্দরবন পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপনের নির্দেশ দেন এবং সেটি অনুমোদিতও হয়। ১৯৫৮ সালে সাতক্ষীরা–ভেটখালী সড়ক নির্মাণের সময় রেলের জন্য জমি সংরক্ষণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল।

বর্তমানে দেশে মোট ২ হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার রেললাইন রয়েছে এবং রেল নেটওয়ার্কে দেশের ৪৪টি জেলা সংযুক্ত। পৃথক রেল মন্ত্রণালয় গঠনের পর ২০১০ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন করে আরও ১৫টি জেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭টি নতুন জেলায় রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ প্রায় শেষের পথে। ওই মহাপরিকল্পনায় নাভারন–সাতক্ষীরা–মুন্সিগঞ্জ রেললাইন নির্মাণের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল। অবশেষে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে যশোরের নাভারন হয়ে ভোমরা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।