তাপস কুমার ঘোষ, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের ছনকা গ্রামে দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আদালতে মামলা এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হলেও বিবাদীপক্ষ নালিশী জমিতে নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছে—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পক্ষ।
অভিযোগকারী ছনকা গ্রামের বাসিন্দা মৃত শেখ মোকছেদ আলীর ছেলে এস.এম. আলম সিদ্দীকী জানান, ছনকা মৌজায় এসএ ও বিআরএস রেকর্ডভুক্ত প্রায় ৭০ শতক জমি তিনি ও তার সহ-ওয়ারিশরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমিতে ফলদ ও বনজ গাছ রোপণ এবং নিয়মিত চাষাবাদ চলছিল বলে তিনি দাবি করেন।
আদালতে দাখিল করা পিটিশনে তিনি উল্লেখ করেন, একই গ্রামের আব্দুস শহীদের ছেলে মনিরুল ইসলাম, মৃত আব্দুল ওদুদের ছেলে রবিউল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, মাহাবুবর রহমান, মোকলেছুর রহমান, সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক দখল নেন। এ সময় জমির মাটি কেটে গর্ত করা, গাছপালা কেটে ফেলা এবং পাকা ঘর ও প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ করা হয়। বাধা দিলে তাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনার পর তিনি সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪, ১৪৫ ও ১৪৭ ধারায় পিটিশন মামলা (নং–০৭/২৬, কালিগঞ্জ) দায়ের করেন। এছাড়া গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ ও খুন-জখমের হুমকি পাওয়ার অভিযোগে কালিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং–৯৯৩, তারিখ: ২০/০১/২০২৬) করা হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা থাকলেও বিবাদীপক্ষ তা উপেক্ষা করে নালিশী জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকায় যে কোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানান।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে জমি ঘিরে থমথমে পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুয়েল হোসেন বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের একজন রবিউল ইসলাম দাবি করেন, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় এবং কোর্টের নোটিশ পাওয়ার পর তারা নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছেন। তবে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, বাস্তবে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আগেই কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
