শেখ মারুফ হোসেন, বাগেরহাট থেকে :
স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ এবং টেকসই করে তোলার লক্ষ্যে বাগেরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ফেজ-আউট প্ল্যানিং ওয়ার্কশপ অন জিএইচআই (GHI), মোংলা’। বাগেরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এই কর্মশালায় মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাস্তবায়িত ‘গ্রিন হেলথ কেয়ার ইনিশিয়েটিভ’ (জিএইচআই) প্রকল্পের অভাবনীয় সাফল্য এবং এর স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
উল্লেখ্য, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে বাস্তবায়িত এটি বাংলাদেশের প্রথম এমন একটি প্রকল্প, যা সফলভাবে বাগেরহাটের মোংলায় সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পের সাফল্যকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করে বাগেরহাটের অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতালসহ পর্যায়ক্রমে সারা দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া শুরু করার কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
আজ বুধবার (১লা জুলাই, ২০২৬) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বাগেরহাটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান এবং পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন ডা. প্রিয় গোপাল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, শরণখোলা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ রিয়াদুজ্জামান। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ.স.ম মাহাবুবুর রহমান।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ.স.ম মাহাবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডা. ইকবাল কবির, ডাইরেক্টর কাম কো-অর্ডিনেটর, সিসিএইচপিইউ, এইচএসডি, এমওএইচএফডাব্লউ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ইউএনএফপিএ-এর প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট (ম্যাটারনাল হেলথ) নাবিলা পূর্ণ এবং পিএইচডি-এর অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. সাখাওয়াত হোসাইন। সভায় জিআই অ্যাক্টিভিটি অ্যান্ড প্ল্যানিং প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহিন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ-এর ফিল্ড অফিসার ডা. নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দারসহ জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সিনিয়র স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সভায় উপস্থিত সকল অতিথি নিজ নিজ বক্তব্যে জিএইচআই প্রকল্পের সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাবের ওপর আলোকপাত করেন। বক্তারা বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং গ্রিন প্রকিউরমেন্ট পলিসি চালুর ফলে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মপরিবেশে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে এই প্রকল্প একটি অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দুর্যোগকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানের সক্ষমতা অর্জন এই প্রকল্পের বড়ো সাফল্য।
প্রধান অতিথি প্রফেসর ডা. ইকবাল কবির, ডাইরেক্টর কাম কো-অর্ডিনেটর, সিসিএইচপিইউ, এইচএসডি, এমওএইচএফডাব্লউ বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এর প্রভাব বজায় রাখতে সরকারিভাবে ‘সাসটেইনেবিলিটি’ বা স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবাকে পরিবেশবান্ধব করার এই মডেল এখন জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
সমাপনী বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. আ.স.ম মাহাবুবুর রহমান প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্পের সফল অভিজ্ঞতার আলোকে বাগেরহাটের প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র অচিরেই ‘সবুজ হাসপাতাল’-এ রূপান্তরিত হবে, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য যে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-৩, ৬ ও ১৩) অর্জনে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে গেল।
