
তাপস কুমার ঘোষ,কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে টিউবওয়েল মেরামতের কথা বলে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার পর সন্তানদের ক্ষতির ভয় দেখানো এবং স্বামীকে দিয়ে তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় তিন মেয়েকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে বের হয়ে অভিযুক্ত হাবিবুল্লাহ সরদারের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে বিচার দাবি করেছেন ওই গৃহবধূ। পরে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।অভিযুক্ত হাবিবুল্লাহ সরদার উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের হারেজ সরদারের ছেলে এবং পূর্ব কালিকাপুর বাইতুন নুর জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক।
বুধবার (৭ অক্টোবর ) বিকালে স্থানীয় ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৩০ বছর বয়সী ওই গৃহবধূ কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী দিনমজুরের কাজ করেন এবং জীবিকার প্রয়োজনে অধিকাংশ সময় বাড়ির বাহিরে থাকেন। তাদের ১১, ৭ ও ১ বছর বয়সী তিন কন্যাসন্তান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৮ আগস্ট বাড়ির টিউবওয়েল নষ্ট হলে স্বামী বাড়িতে না থাকায় প্রতিবেশী হাবিবুল্লাহ সরদারকে সেটি মেরামত করে দেওয়ার অনুরোধ করেন ওই নারী। ওই দিন রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে হাবিবুল্লাহ টিউবওয়েল মেরামতের জন্য তাদের বাড়িতে যান।
গৃহবধূর অভিযোগ, টিউবওয়েল মেরামতের একপর্যায়ে হাবিবুল্লাহ তাকে পেছন থেকে জাপটে ধরে মুখ চেপে ধরেন। এ সময় চিৎকার করলে তার দুই মেয়ের ক্ষতি করা এবং স্বামীকে দিয়ে তালাক দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরে টিউবওয়েলের পাশে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি কাউকে জানালে ক্ষতি করা হবে এমন ভয় দেখানোর কারণে তিনি কাউকে কিছু বলতে পারেননি। এরপর বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সর্বশেষ গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভয় দেখিয়ে একই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।পরদিন স্বামী বাড়িতে ফিরলে দীর্ঘদিনের ঘটনা তাকে জানান ওই নারী। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তিন মেয়েসহ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরে অভিযুক্তের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে বিচার দাবি করেন এবং কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাবিবুল্লাহ সরদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তার ছেলে মিলন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারটি তার বাবার কাছ থেকে বিভিন্ন পারিবারিক কাজে সহযোগিতা নিয়ে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে আপত্তিকর কথা ছড়ানোর পর মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর স্বামী সাইফুল্লাহ শেখ বলেন, আমার তিনটি সন্তান রয়েছে। তাদের মায়ের বিষয়ে এমন অভিযোগ জানার পর আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। একই সঙ্গে আমার ও সন্তানদের সামাজিক নিরাপত্তা এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।
ভুক্তভোগী বলেন, তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার চান।