Thursday, 8th October 2026

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
কলারোয়ায় প্রাণী প্রেমিক সোহানের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কলারোয়ায় প্রাণী প্রেমিক সোহানের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কলারোয়ায় প্রাণী প্রেমিক সোহানের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কামরুল হাসান, স্টাফ রিপোর্টার:

“জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর”। কলারোয়ায় অন্ধ ঘোড়ার প্রতি মানবিক আচরণ ও দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত রাখা সেই কলেজ ছাত্রের পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মানবিক কাজে আলোচিত সেই কলেজ ছাত্র কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী চান্দুড়িয়া গ্রামের সোহান।

ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অন্ধ একটি ঘোড়াকে আশ্রয় দিয়ে লালন-পালনের দায়িত্ব নেওয়া এই শিক্ষার্থীর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং উপহার সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সোহানের বাড়িতে গিয়ে আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন। এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের নির্দেশনায় বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অন্ধ ও অসুস্থ একটি ঘোড়া শ্মশানের পাশে পড়ে আছে। স্থানীয় অনেকে ভিডিও ধারণ করলেও প্রাণীটিকে উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেননি। ভিডিও দেখে ঘটনাস্থলে ছুটে যান চন্দনপুর ইউনাইটেড কলেজের ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া চান্দুড়িয়া গ্রামের শিক্ষার্থী সোহান।
তিনি ঘোড়াটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রথমে তার বাবা-মা এ সিদ্ধান্তে কিছুটা অনিহা প্রকাশ করলেও পরে সোহানের কথায় রাজি হয়।

পরে পশুচিকিৎসকগণ ঘোড়াটিকে পরীক্ষা করে জানান, ঘোড়াটির দুটি চোখই স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসার মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভবপর নয়। এটা জেনেও অন্ধ ঘোড়াটিকে ফেলে না রেখে নিজের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এর পরিচর্যার দায়িত্ব নেন সোহান।

সোহান বলেন, দুচোখ অন্ধ হলেও এটি তো একটি জীবন্ত প্রাণী। চোখের সামনে একটি প্রাণীকে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দিতে পারিনি। তাই বাড়িতে নিয়ে এসেছি। যতদিন বাঁচবে, আমরা ওর যত্ন নেব।

সোহানের বাবা নাঈম হোসেন বলেন, ছেলের আগ্রহের কারণেই ঘোড়াটিকে বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছি। আমরা সাধ্যমতো এর দেখাশোনা করছি। সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে অসহায় প্রাণীর পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমরা ঘোড়াটির পরিচর্যা করছি এবং করবো।

বর্তমান ঘুণেধরা সমাজে সোহানের এই মহৎকর্ম স্থানীয় মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকের মতে, স্বার্থকেন্দ্রিক এই সময়ে একটি অসহায় প্রাণীর প্রতি তাঁর এমন মমত্ববোধ মানবিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।