একটি সম্ভাবনাময় পুঁজি গড়ার সুযোগ তৈরি হলেও টপ অর্ডারের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই বাংলাদেশের স্কোরলাইন শেষ পর্যন্ত ১১১ রানেই আটকে যায়।তবে ব্যাটিংয়ের চেয়েও বেশি দৃষ্টিকটু ও ক্ষমার অযোগ্য ছিল দলের বোলিং আক্রমণ এবং চরম বিশৃঙ্খল বোলিং অধ্যায়, বিশেষ করে অভিজ্ঞদের বাজে পারফরম্যান্স। দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব যার কাঁধে ছিল, সেই মুস্তাফিজুর রহমানই দলের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। অভিজ্ঞতা ও কাটার-স্লোয়ারের ক্ষমতার জন্য বিখ্যাত এই বাঁহাতি পেসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওভারপ্রতি প্রায় ২০ রান করে উপহার দিয়েছেন। যে ওভারে ম্যাচ পাকিস্তানের হাত থেকে কেড়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল, সেই দশম ওভারে গিয়ে ২৩ রান অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে প্রতিপক্ষকে জয়ের দিকে এগিয়ে দেন তিনি।কেবল মুস্তাফিজ নন, দলের আরেক অভিজ্ঞ স্পিনার নাসুম আহমেদও লেংথ ঠিক রাখতে না পেরে অহেতুক ছক্কা খেয়েছেন, যার ফলে এই দুই বোলার মিলেই ৫ ওভারে দিয়েছেন অবিশ্বাস্য ৭৪ রান। অধিনায়ক লিটন দাসের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দুর্বলতা এবং মোমেন্টাম বুঝে বোলিং পরিবর্তনের ক্ষমতার ঘাটতিও এই হারকে ত্বরান্বিত করেছে। জয় পেতে পাকিস্তানের যখন চার ওভারে ৩৬ রান দরকার, তখন বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং ও ফিল্ডিং সাজানোর পরিবর্তে দলনায়ক ও বোলাররা পুরোপুরি প্যানিক মোডে চলে যান। অভিজ্ঞতার বুলি আওড়ানো বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের অবিচ্ছিন্ন সামাদ-নাওয়াজ জুটির ঠান্ডা মাথার ব্যাটিংয়ের কাছে কৌশলগত ও মানসিকভাবে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে স্বর্ণ পদকের স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিয়ে এখন ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে সান্ত্বনা খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।