তাপস কুমার ঘোষ,কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে গালিগালাজ, লাঞ্ছনার চেষ্টা এবং পরিবারের সদস্যকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের গড়ুইমহল গ্রামের শেখপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গড়ুইমহল শেখপাড়া এলাকায় রতনপুর তারকনাথ বিদ্যাপীঠের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সাব্বিরকে (পিতা: মো. হায়দার আলী) একই গ্রামের হাফিজুর রহমান নামের এক যুবক চড়-থাপ্পড় মারেন। এ সময় সাব্বিরের সহপাঠী শেখ সাদী, খালিদ হাসান ও মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরে এ ঘটনায় হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগের তদন্তে ঘটনাস্থলে যান কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন।
তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্তে গিয়ে এসআই আব্দুল মতিন স্থানীয় বাসিন্দা শেখ সোহেলের বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁর স্ত্রী সালমা খাতুনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। সালমা খাতুন দুই সন্তানের জননী এবং বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। তিনি গালিগালাজের প্রতিবাদ জানিয়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের আচরণের কারণ জানতে চাইলে এসআই মতিন ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর গালে চড় মারতে উদ্যত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সালমা খাতুন বলেন, আমার সন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় পুলিশের একজন কর্মকর্তার এমন রূঢ় ও আক্রমণাত্মক আচরণে আমি ভীষণ ভয় পেয়েছি। ঘটনার পর থেকে মানসিক চাপে রয়েছি।
সালমা খাতুনের স্বামী শেখ সোহেল অভিযোগ করে বলেন, এসআই আব্দুল মতিন তাঁকে গাঁজার মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সম্পৃক্ততা ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ের প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর আশঙ্কা করছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে ১১ নম্বর রতনপুর ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল গফ্ফার বলেন, ‘আমরা পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি শান্তভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের কথা না শুনে বিভিন্ন ধরনের মামলায় জড়ানোর ভয় দেখান। এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালিগঞ্জ থানার এসআই আব্দুল মতিন বলেন, গড়ুইমহলের হাফিজুর রহমানের জিডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ঘটনাস্থলে তদন্ত করতে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে বিপাকে ফেলতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও জুলাইয়ের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ‘মব’ সৃষ্টির চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতির গুরুত্ব ও নাজুকতা বিবেচনা করে সেখান থেকে চলে আসেন বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তবে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে লাঞ্ছনার চেষ্টা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
এদিকে, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্তে গিয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে লাঞ্ছনার চেষ্টা ও পরিবারের সদস্যকে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
