
নতুন সূর্য ডেস্কঃ মাত্র দেড় মিনিট। এরই মধ্যে ১১টি শক্তিশালী গ্রেনেড বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ।
প্রাণ হারান ২৪ জন, আহত হন তিন শতাধিক মানুষ। এ ঘটনার পর কেটে গেছে ১৬ বছর। এখনও সেদিনের সেই হামলার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন আহতরা। শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন যন্ত্রণাদায়ক স্প্লিন্টার। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার কুশীলবদের বিচার চান তারা।
সারাদেশে জঙ্গি হামলা ও গোপালগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। সেখানেই চালানো হয় ইতিহাসের ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলা। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। কিন্তু প্রাণ হারান মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইভি রহমান।
সেদিনের হামরায় আহত অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। স্প্লিন্টারের মারাত্মক ক্ষত নিয়ে অনেকেই বেঁচে আছেন অসহনীয় যন্ত্রণা সঙ্গী করে।
সেদিন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান। বাংলানিউজকে তিনি বললেন, ১৬ বছর পেরিয়ে গেছে। শারীরিক যন্ত্রণা এখন সয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও ভয় যায়নি। জন্মগতভাবেই আমার একটি মাত্র কিডনি। সেখানেই ঢুকে আছে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার। সেটা এতদিনে পাথর হয়ে বের হয়ে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু মাংসপিণ্ড হয়ে থেকে গেছে। বয়সও হয়ে গেছে। এই স্প্লিন্টার নিয়েই মরতে হবে।
বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, হামলায় যারা সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তাদের অনেকের শাস্তির রায় হয়েছে। কিন্তু এর পেছনে যে কুশীলবরা ছিলেন, তারা কিন্তু বিচারের বাইরে আছেন। তাদেরও বিচার চাই। বিরোধী মতকে দমন করতে এমন হামলা বিশ্বে নজিরবিহীন।
১৩৪টি স্প্লিন্টার নিয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট শাহানারা ইয়াসমিন।
তিনি বলেন, দিন যত যাচ্ছে, সমস্যাগুলো ততই বাড়ছে। বাম হাতটা প্রায় অবশ হয়ে গেছে। কোনো কিছু তুলতে গেলে কষ্ট হয়। বয়সও হচ্ছে। এই যন্ত্রণা নিয়েই বেঁচে আছি।
তিনি আরও বলেন, পূর্ণ বিচার এখনও হয়নি। পেছনের কুশীলবদের বিচার চাই। যে পরিকল্পনাকারী, সে সবচেয়ে বড় অপরাধী। তারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।
হামলায় আহত মাহবুবা পারভীন বাংলানিউজকে বলেন, শরীরে এখনও ১৮০০টি স্প্লিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছি। দুটি স্প্লিন্টার মাথায় ঢুকে আছে। এগুলো সুঁই ফোটানোর মতো যন্ত্রণা দেয়। প্রতিদিন নানা সমস্যা তৈরি হয়। কী যে ব্যথা হয়, তা বলে বোঝাতে পারবো না।
বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার কুশীলব খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টুর ফাঁসি দেখতে চাই।
গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার দায়ে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। তাদের মধ্যে বিএনপি সরকারের ওই সময়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু অন্যতম।
একইসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত হন আরও ১১ আসামি।