
শেখ মারুফ হোসেনঃ
সুন্দরবনে জলদস্যুতা ছেড়ে আত্মসমর্পণ করা ৩২৮ জনকে পুনর্বাসনে ঘর, মুদি দোকান, নৌকা ও মাছ ধরার জালসহ গবাদিপশু হস্তান্তর করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল।
১ নভেম্বর দস্যুমুক্ত সুন্দরবন দিবস। ২০১৮ সালের এই দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেন। এরপর থেকে র্যাবের আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। দস্যুমুক্ত দিবসের তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে সোমবার বাগেরহাটের রামপালে সুন্দরবনের আত্মসমর্পণকৃত সাবেক দস্যুদের পুর্নবাসন সহায়তা প্রদান করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল।
সোমবার (১ নভেম্বর) বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা পরিষদ চত্বরে দুপুর আড়াইটার দিকে দস্যুমুক্ত সুন্দরবন দিবসের তৃতীয় বর্ষপুর্তি ও আত্মসমর্পণকৃত দস্যুদের পুর্নবাসন সহায়তা প্রদাণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের ওয়াদা ধর্ষণ আর খুন ছাড়া আর যেসব মামলা যাদের (আত্মসমর্পণকৃত সাবেক দস্যু) নামে আছে সেগুলো মামলা আমরা দেখবো। আমি এখানে (রামপাল) এসে শুনতে পেয়েছি, তবে আমি বিশ্বাস করিনা, আপনারা যারা আত্মসমর্পণ করেছেন তারা আবার একটু অন্যদিকে চিন্তা ভাবনা করেন, দয়া করে করবেন না। কষ্ট হচ্ছে, কষ্ট করছেন শুনেছি। আপনাদের জীবিকার জন্য সরকার পাশে আছে। আমরা আপনাদেরকে ভুলিনি। যদি কেউ আবার বিপথে যায়, তার জন্য কিন্তু আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী বসে থাকবে না।
এ সময় তিনি আরো বলেন, মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে বিভিন্ন আমদানী পণ্য খোয়া যাচ্ছে। আমি বলছি কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশ এগুলো দেখবেন। কাউ কেই আমরা এখানে আর ডাকাতি বৃত্তি করতে দিবো না। হোক নদী, উপকূল কিংবা বন-জঙ্গল, কোথাও ডাকাতি করতে দিবো না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন ছিল এদেশ হবে একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ। এই জায়গায়ও হিন্দুদের দুর্গাপূজার সময়ে গুজব তৈরি করে একটি বিশেষ অবস্থার সৃষ্টি করতে চেয়েছিলো যারা সেটাও প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় তাদের সেই আশাও পূরণ হয়নি। যারা চিন্তা ও মনে করেন এদেশে অস্থিরতা বৃদ্ধি করে আপনারা সফল হবেন সেই আশায় গুড়ে বালি। এদেশকে নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দিব না। আমরা এ শান্তির দেশে কেউকে কোন ভাবেই অরাজকতা সৃষ্টি করতে দিবো না।
র্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ, বর্ডার গার্ডের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ সাফিনুল ইসলাম, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা-০২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সালাউদ্দিন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শামসুল হক টুকু, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, পীর ফজলুর রহমান এমপি, মোঃ হাবিবুর রহমান এমপি, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন ও র্যাব, পুলিশসহ বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।
এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল আত্মসমর্পণকৃত ৩২৮ জন সাবেক দস্যুদের মধ্যে ১০২ জনকে ঘর, ৯০ জনকে মুদি দোকান, ১২ জনকে মাছ ধরার জাল ও নৌকা, ৮ জনকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা এবং ২২৮ জনকে গরু-বাছুর পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করেন।