
মোমিনুল ইসলাম, কয়রা (খুলনা)
সুপার সাইক্লোন আম্পান এবং মহামারী করোনা ভাইরাসের লকডাউনে মানবেতর জীবনযাপন করছে উপকূলবাসী। উপকূলীয় ৪ হাজার মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে রক্তদান এবং ৮শত পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সহ মানবতার সেবায় সর্বদাই কাজ করে যাচ্ছে, খুলনা জেলার সুন্দরবন উপকূলীয় উপজেলা কয়রার একঝাঁক তরুণ-তরুণী। এসকল মানবতার ফেরিওয়ালাদের প্রাণের সংগঠন “কয়রা ব্লাড ব্যাংক” এর কার্যনির্বাহী কমিটি-২০২০ গঠিত হয়েছে।
১লা সেপ্টেম্বর কয়রা ব্লাড ব্যাংক এর প্রতিষ্ঠাতা সোহাগ বাবু এবং মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই কমিটি ঘোষণা করা হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মোঃ নাইমুল রনি।
কমিটিতে সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন যথাক্রমে সরকারি বিএল কলেজের শিক্ষার্থী সাবিরুল ইসলাম ডালিম, গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক এবং মানবাধিকার সংগঠনের আহবায়ক মোঃ ইকবাল হোসেন, সাংবাদিক ও সমাজ সেবক ওবায়দুল কবির সম্রাট, এস এম মাসুদ, মাহমুদুল হাসান বাদশাহ, আব্দুলাহ আল মামুন এবং বিল্লাহ হোসেন।
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ইমরান হোসেন ইমু, মেহেদী হাসান, শেখ মনিরুল ইসলাম এবং হুমায়ুন কবির। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন ইমদাদুল হক টিটু, মুসলিমা জাহান রিমা, দিদারুল ইসলাম, শেখ মুজাহিদুল ইসলাম রিপন এবং সুজন আল মামুন।
এছাড়াও কোষাধ্যক্ষ- মোহাম্মদ আবু হাসান, দপ্তর সম্পাদক- হাফিজা রহমান, উপ-দপ্তর সম্পাদক- আব্দুস সালাম, প্রচার সম্পাদক- মনিরা আক্তার মুক্তা, উপ-প্রচার সম্পাদক- আক্তারুল ইসলাম বিজয়, ক্রীড়া সম্পাদক- ইমরানুল কবির, উপ-ক্রীড়া সম্পাদক- তানভীর হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- রাসেল রানা, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক- সিরাজুল ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক- আবু ইসহাক, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক- শেখ রউফ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক – ইমদাদুল হক টিটু (৪নং কয়রা) এবং কার্য নির্বাহী সদস্য হিসেবে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত আছেন আল আমিন সবুজ, জুয়েল হাসনাত এবং জাহিদুল ইসলাম।
কয়রা ব্লাড ব্যাংকের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল হোসেন বলেন,”সুন্দরবন উপকূলীয় কয়রা মাদকমুক্ত একটি উপজেলা। এখানকার মানুষের জীবন-যাপন অতিসাধারণ। উপজেলাটির বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রাণের সংগঠন “কয়রা ব্লাড ব্যাংক” রক্তদানে এগিয়ে যাচ্ছে।” তিনি এ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রশাসনিক বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস এম শফিকুল ইসলাম সংগঠনটির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “রক্তদান হচ্ছে সবচেয়ে বড় একটি মানব সেবামূলক ইবাদত। জরুরী মূহুর্তে এক ব্যাগ রক্তই পারে একজন রোগীর জীবন বাঁচাতে। কয়রা ব্লাড ব্যাংকের কর্মীদের রক্ত দান এবং জরুরী রক্তের চাহিদা পূরণ জীবন ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, “রক্তের বিকল্প শুধু রক্ত যা টাকার পরিমাপে মূল্যায়ন করা যায় না। একজন মুমূর্ষু রোগীর জন্য যখন জরুরী রক্তের প্রয়োজন, তখনই কেবল বোঝা যায় রক্তের মূল্য কতখানি?” মানুষের জীবন বাঁচাতে কয়রা ব্লাড ব্যাংকের মানব সেবা কাজকে সাধুবাদও জানান তিনি।
কয়রা-পাইকগাছা-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান বাবু বলেন, “সমাজের অবহেলিত, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে মানব সেবামূলক কাজ; রক্তদানের অবদান অনস্বীকার্য। ‘কয়রা ব্লাড ব্যাংক’ করোনা ভাইরাসের অবরুদ্ধ সময়ে ফ্রন্ট লাইনে থেকে রক্ত দানে কাজ করছে। দেশের বৃহৎ রক্তদান সংগঠন বাঁধন, সন্ধানী, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মতো সংগঠনটি ভবিষ্যতে বিস্তৃতভাবে প্রসারিত হোক।” এছাড়াও তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির সামগ্রিক সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।
প্রসঙ্গত, “কয়রা উপজেলার মাটিতে রক্তের অভাবে যেন একটি মানুষও মৃত্যুবরণ না করে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত ২০১৮ সালের ৪ঠা এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয় “কয়রা ব্লাড ব্যাংক”। সে থেকে হাঁটি-হাঁটি, পা-পা করে খুলনা দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৪ হাজারেরও অধিক সদস্য নিয়ে কাজ করছে সংগঠনটি। সেবামূলক অর্গানাইজেশনটি জরুরি প্রয়োজনে রক্ত দান সহ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন উপজেলা এবং জেলার রক্ত দাতা এবং রক্ত গ্রহীতাদের মধ্যে সমন্বয় করতে রয়েছে বিশেষ “ইমারজেন্সি ব্লাড টিম”।
“কয়রা ব্লাড ব্যাংক” কয়রা সহ পাশ্ববর্তী উপজেলা পাইকগাছা, ডুমুরিয়া, খুলনায় রক্তদানে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন, কুড়িয়েছেন মানুষের হৃদয় নিংড়ানো দোয়া এবং ভালোবাসা।