
নতুন সূর্য ডেস্কঃ
তেরখাদা উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শাহ মোঃ ইয়াহিয়া নড়াইলের ছেলে, খুলনা শহরের ভোটার, এলাকার কর্মসূচিতেও দেখা যায় না। এ নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আ’লীগের শীর্ষ নেতাদের। কমিটি হওয়ার প্রায় দেড় বছরেও এলাকায় দলীয় কোন কর্মসূচিতে অংশ নেননি তিনি। কর্মসূচি তো দুরের কথা, ছাত্রলীগের কলেজ-ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিও করতে পারেনি তেরখাদা ছাত্রলীগ। করোনা পরিস্থিতিতেও জনগনের পাশে এসে দাড়ায়নি সংগঠনটি। এ অবস্থায় তেরখাদা ছাত্রলীগ, অভিভাবক সংগঠন আ’লীগের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও রাজপথের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে কমিটি পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীও।
দলীয় সূত্র মতে, গত বছরের ৩ এপ্রিলে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ইলিয়াসবাদা ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহ মোঃ ইয়াহিয়াকে আহ্বায়ক ও তেরখাদার মোঃ আশিকুজ্জামান শোভনকে সদস্য সচিব করে ৩৬ সদস্য বিশিষ্ট ছাত্রলীগের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছিলেন জেলার সভাপতি মোঃ পারভেজ হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমরান হোসেন। নড়াইলের কালিয়ার বাসিন্দা ও খুলনার সোনাডাঙ্গা ডাক্তারপাড়া এলাকার ভোটার ইয়াহিয়াকে আহ্বায়ক করায় শুরুতেই কমিটি ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে। ফলে এলাকাতেই যেতে পারেনি ইয়াহিয়া। গত দেড় বছরে দলীয় কোন কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণ ছিলই না। এছাড়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ও সরকারি একটি কলেজসহ চারটি মহাবিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কমিটি দিতে পারেনি। উপজেলা ছাত্রলীগকে সাংগঠনিক প্রয়োজনেও পাশে পায়নি অভিভাবক সংগঠন আ’লীগের শীর্ষ নেতারা। এনিয়ে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে তাদের মধ্যেও।
এবিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা আ’লীগ নেতা মোঃ শহিদুল ইসলাম, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান এফএম অহিদুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আলমগীর বলেছেন, ‘তেরখাদা উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নড়াইলের বাসিন্দা! কিভাবে হল এমন কমিটি? দলীয় কোন কর্মসূচিতেও তাকে পাওয়া যায় না। অবিলম্বে তেরখাদা ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিয়ে রাজপথের ত্যাগী-পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।’ গত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস পালনে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় পৃথক বক্তৃতায় তারা এসব কথা বলেন।
এসব বিষয়ে জানতে তেরখাদা উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শাহ মোঃ ইয়াহিয়াকে কয়েকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। আর উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য সচিব আশিকুজ্জামান শোভন বলেন, উপজেলা আ’লীগের কোন কর্মসূচিতে বললে যাই, না বললে কোথায় যাবো। তারা তো কর্মসূচিতে আমাদের বলেনই না। তেরখাদা উপজেলা ছাত্রলীগের ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ হোসাইন আহমেদ বলেন, তেরখাদার বাসিন্দা না, কোন কর্মসূচিতে কোনদিন উপস্থিত থাকেন না, প্রবাসীর স্ত্রী ৩ সন্তানের জননীকে ভাগিয়ে বিয়ে করেছে-এমন ব্যক্তিকে তেরখাদা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি করা হয়েছে। এটা সারাদেশে ছাত্রলীগকে অপমাণিত করা হয়েছে। করোনাকালীন সময়ে তিনি কোন কর্মকান্ড তো দুরের কথা এলাকাতেই আসেনি। তিনি আরও বলেন, আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য, আমার রাজনৈতিক অভিভাবক আব্দুস সালাম মুর্শেদীর নির্দেশনায় করোনাকালীন সময়ে অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে গেছি। বৃক্ষরোপন কর্মসূচিসহ দলীয় সকল কর্মসূচিতে ছাত্রলীগকে সম্মুন্নত রেখেছি।
দলীয় সূত্রমতে, আগাছা উপড়ে ঘর গুছিয়ে স্বাভাবিক সাংগঠনিক কার্যক্রমে ফিরবে আ’লীগ ও তার সকল অঙ্গ সংগঠন। আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশনার পর নড়েচড়ে বসেছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। পাঁচ সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রে জমা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা শাখা সম্মেলনের কার্যক্রম শুরুর নির্দেশে প্রাণসঞ্চারিত হয়েছে তৃণমূলে। এ নির্দেশনার পরই নতুন করে আলোচনায় এসেছে ছাত্রলীগের বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিষয়টি। ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ভাবছেন জেলা আ’লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ ও সাধারন সম্পাদক এড. সুজিত অধিকারী।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে মোঃ পারভেজ হাওলাদার সভাপতি ও মোঃ ইমরান হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরের বছর ৫ ফেব্র“য়ারি রাতে খুলনা জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। তবে কমিটিতে অধিকাংশ অপরিপক্ক, বয়সোর্দ্ধ, বিবাহিত ও অছাত্রদের নাম ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। কমিটির তিন বছর অতিবাহিত হলেও কয়েকটি প্রেস কমিটি অনুমোদন দেয়া ছাড়া কোন সম্মেলনে কমিটি দিতে পারেনি। জেলার উপজেলা, পৌরসভা, কলেজ ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সংগঠনের অবস্থা খুবই নাজুক এবং সব কয়টি উপজেলা কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ।