বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৩

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা
অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা

অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা

নতুন সূর্য ডেস্কঃ 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বেসামরিক, নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল উজরা জেয়া জাতিসংঘের ৭৮তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বৃহস্পতিবার তাদের সাক্ষাতের পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন নিউইয়র্কে ৭৮তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশন কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

ড. মোমেন বলেন, শেখ হাসিনা-উজরা জেয়ার বৈঠকে তারা বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও উজরা জেয়ার বৈঠকে বাংলাদেশের আগামী সাধারণ নির্বাচনের বিষয়টি উঠে আসে। উজরা জেয়া বলেন, তারা বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অহিংস নির্বাচন চান। শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরাও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে না’।

মোমেন বলেন, ‘সহিংসতামুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিক সহযোগিতা প্রযোজন। আমরা জনগণের ভোটে বিশ্বাস করি। জনগণের ভোট ছাড়া কেউ ক্ষমতায় আসতে পারে না। ভোট কারচুপির মাধ্যমে কেউ ক্ষমতায় এলে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। দেশের সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন হবে’।

আগামী সাধারণ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানো সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী সাধারণ নির্বাচনে আমরা বিদেশি পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানাই। তবে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র্র ও যুক্তরাজ্যসহ বেশিরভাগ দেশই নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের অনুমতি দেয় না’।

মোমেন আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হওয়ায় রোহিঙ্গারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কারণ, তারা সেখানে কোনো ভবিষ্যত অনুভব করছে না। অনেক রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে হত্যা, আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালান এবং মাদক ব্যবসার মতো বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।’

উজরা জেয়া প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তারা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের জন্য ১১৬ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জেয়া রোহিঙ্গাদের উন্নত জীবিকা নিশ্চিত করতে তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো শুরু করার আগে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা উচিত, অন্যথায় এই অঞ্চল নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়বে। তিনি গাম্বিয়ার আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) করা মামলায় আন্তর্জাতিক সমর্থনও চেয়েছেন।

গণহত্যা প্রতিরোধে জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যালিস ওয়াইরিমু এনদেরিতুও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যাকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি মিয়ানমারে গণহত্যার বিচার অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।