শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
কেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বিপর্যস্ত?
কেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বিপর্যস্ত?

কেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বিপর্যস্ত?

লেখাঃ সালেক সুফী,সিনিয়র ক্রীড়া বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানী পরামর্শক

দেশে এবং প্রবাসে আমার আত্মীয় ,বন্ধু ,শুভাকাঙ্খীদের অনেকেই ক্রিকেট অনুরাগী। আমরা বিদেশী বন্ধুরাও জানে আমি ক্রিকেট ঘনিষ্ট। অনেকের প্রশ্ন কি হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের? কেন এমন হতাশ ,বিবর্ণ ? অনেকের প্রশ্ন এবারের বিশ্বকাপের হট ফেভারিট ইংল্যান্ড কেন তলানিতে? কি জবাব দিবো কথা থেকে শুরু করবো ? অনেক প্রশ্নের জবাব মেলে না. অনেক সমীকরণের সরল সমাধান নেই.
চলতি বিশ্বকাপ এখন তুঙ্গে। ১০ দলের প্রতিটি ৬ টি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে। আমার বর্তমান দেশ অস্ট্রেলিয়া এবং প্রতিবেশী দেশ নিউজিল্যান্ড আছে সেরা চার দলে। স্বাগতিক শক্তিশালী ভারত এখন সবার উপরে। আরো আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এবারের টুর্নামেন্টে চমক জাগিয়ে আমার একসময়ের কাজ করা দেশ আফগানিস্তান বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড , প্রাক্তন চ্যাম্পিয়ন ভারত এবং শ্রীলংকাকে হারিয়ে আলোড়ন তুলেছে। এমনকি আইসিসি সহযোগী সদস্য নেদারল্যান্ডস হারিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা , বাংলাদেশকে। বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়া -নিউজিলান্ডের ৭৭১ রানের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখেছে। পাকিস্তান -দক্ষিণ আফ্রিকা নিশ্বাস রোধী লড়াই দেখেছে। চার সেরাদের তিনটি মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেলেও চতুর্থ স্থানটির জন্য নানা সমীকরণ। হয়তো চলতি রাউন্ড শেষেই অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যাবে। তবে বাংলাদেশ এবং ইংল্যান্ড হয়তো সেরা আটে স্থান না পেয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পারবে না.
কেমন এমন হলো ?
বাংলাদেশ যেহেতু আমার মায়ের দেশ এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে আমার নাড়ির সম্পর্ক তাই বাংলাদেশ নিয়েই বিশ্লেষণ করি. প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দারুন জয় দিয়ে সূচনা করেছিল বাংলাদেশ ,কিন্তু এর পরেই চেনা দল হটাৎ অচেনা হয়ে গেলো। নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড ,ভারত ,দক্ষিণ আফ্রিকা , নেদারল্যাডস , পাকিস্তান সবার সাথেই বিপুল ব্যাবধানে পরাজয় সামান্যতম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলো না বাংলাদেশ একটি খেলায়ও। কিন্তু কেনো ?
বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে একমাত্র দল যারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ১৫ জনের নাম ঘোষণায় দ্বিধান্বিত ছিল. অনেক নাটক আর বিতর্ক করে বাদ দেয়া হলো দেশ সেরা ওপেনিং ব্যাটসম্যান অভিজ্ঞ তামিম ইকবালকে। বাংলাদেশের সব ফরম্যাটে শীর্ষস্থানীয় রান করা তামিম কিছু দিন আগেও ছিল দলনায়ক। বিশ্বকাপের মত আসরে তামিমের মত একজন প্রমাণিত সফল খেলোয়াড়কে হতাশ ,ক্ষুব্ধ করে দলের বাইরে রাখা বাংলাদেশ দলের এলোমেলো হয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। তামিমের অকাল অবসর , প্রধান মন্ত্রীর অনুরোধে ফিরে আশা , নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দলের বাইরে ঠেলে দেয়া দলকে নিঃসন্দেহে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় মুখে ফেলেছে। দেশ ছাড়ার পূর্বে অধিনায়ক সাকিবের ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দেয়া সাক্ষাৎকারটি অপেশাদারী অনভিপ্রত ছিল. একজন বিশ্বসেরা ক্রিকেটার বাংলাদেশিদের রোল মডেল এমন করে বিদ্বেষমূলক কথা বলায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়.
এর পর আসুন একাদশ নির্বাচনে। ভারতে খেলা ,সাধারণত ধীর গতির ,ঘূর্ণি উইকেট অথবা ব্যাটিং বান্ধব ফ্লাট উইকেট হবে জানা ছিল. নেয়া হলো ৫ পেসার ,দুই জন স্বল্প অভিজ্ঞ স্পিনার। ১৫ জনের ৭ জনের ব্যাটিং দক্ষতা সীমিত। সাকিব , মেরাজ দুইজন বিশ্বমানের অল রাউন্ডার। বাকি ছয় জন ব্যাটসম্যান। ছয় জনের দুজন আনকোরা নবীন। তামিম না থাকায় ওপেনিং পার্টনারশিপ নড়বড়ে। টপ অর্ডার ব্যাটিং দক্ষতা প্রশ্ন বিদ্ধ। তার পরেও দলে নেই কোনো ব্যাক আপ ব্যাটসম্যান। অধিনায়ক সাকিব ক্রিকেটে মনোযোগ নেই. অনুশীলনে গড় হাজির। টুর্নামেন্ট জুড়েই নিজের ছায়ামাত্র। এমনি এক দলের ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও চালানো হলো ক্রমাগত পরীক্ষা নিরীক্ষা। এমন একটি দল প্রথম কয়েকটি ম্যাচে বিশাল ব্যাবধানে হেরে নিজেদের হারিয়ে ফেললো। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত দলে দুইজন প্রধান ব্যাটসম্যান মুশফিক এবং মাহমুদুল্লাহ। টিম ম্যানেজমেন্ট পারলে মাহমুদুল্লাহকে দলের বাইরে রাখতে চায়. বাধ্য হয়েই ৭ /৮ নম্বরে ব্যাট করতে দেয়া হলো. অথচ মাহমুদুল্লার কারণেই বাংলাদেশ কয়েকটি ম্যাচে ৫০ ওভার ব্যাট করলো। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৭ নম্বর পসিশনে খেলেই ১১১ রান করলো রিয়াদ। ৬ ম্যাচের ৫ টিতে সুযোগ পেতে রিয়াদ তার প্রতি অনাদর অবহেলার কড়া জবাব দিলো।
উপরের বর্ণনা থেকেই বুঝতে পারছেন বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কম প্রস্তুত দল। দুরভিসন্দি করে তামিম ইকবালকে দলছাড়া করা। সবচেয়ে অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে কোনঠাসা করে রাখা। ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে ক্রমাগত পরীক্ষা নিরীক্ষা , দলে কোনো ব্যাক আপ ব্যাটসম্যান না থাকা। সর্বোপরি দলনায়কের দায়িত্ব সচেতনার অভাব দলের ভরাডুবির কারণ। কেউ কি কোনোদিন শুনেছেন দল যুদ্ধময়দানে সেনাপতি গেছেন প্রশিক্ষণ নিতে। গোটা দল হতাশ ,আতংকিত।
এখনো দুটি খেলা বাকি। বর্তমান বিপর্যস্ত অবস্থায় শ্রীলংকার বিরুদ্ধে জয় লাভ সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। তুখোড় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয় নিয়ে স্বপ্ন দেখারও সুযোগ নেই.
ইংল্যান্ডের ভরাডুবি নিয়ে পৃথক আলোচনা করবো।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।