বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বৃত্তের গুলিতে কলারোয়ার শেখ আবির হোসেন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বৃত্তের গুলিতে কলারোয়ার শেখ আবির হোসেন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বৃত্তের গুলিতে কলারোয়ার শেখ আবির হোসেন নিহত

তরিকুল ইসলাম, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:

উচ্চশিক্ষার জন্য আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে পড়তে গিয়ে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থী শেখ আবীর হোসেনের মায়ের কান্না থামছেই না। অতি দ্রুত হয়রানি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র থেকে মরদেহটি বাড়িতে ফেরত চাই নিহত আবিরের মা আঞ্জুয়ারা বেগম।

রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা কলারোয়ার হেলাতলা ইউনিয়নের ঝাপাঘাট শেখ পাড়া গ্রামে মেধাবী শিক্ষার্থী শেখ আবীর হোসেনের বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেষবারের মতো সন্তানের মৃত মুখটা দেখার জন্য শেখ আবিরের মা আহাজারি করছে পাশে শেখ আবিরের বোন ভাই ও প্রতিবেশীরা মলিন মুখে অপেক্ষায় রয়েছে।

কলারোয়া থানা অফিসার ইনচার্জ-ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, নিহত আবীর হোসেন (৩৮) সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের ঝাঁপাঘাট শেখ পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিম এর ছোট ছেলে। তিনি আমেরিকাতে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি আইফোন সেলস সেন্টারে পার্টটাইম চাকুরীতে কর্মরত ছিলেন। আমেরিকার রাত্রিকালিন সময় ও বাংলাদেশ সময় শনিবার ৩০ ডিসেম্বর দুপুরে তার আইফোন সেলস সেন্টারে টাকা ও মালামাল লুট করার উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে একদল সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীদের লুটে বাঁধা দিয়ে মালিকের কাছে ফোন করার চেষ্টা করছিলো আবীর এসময় ডাকাতদের একজন তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় তারা। গুলিবিদ্ধ আবির হোসেন সেখানেই মারা যায়। আবীরের মরদেহ দেশে নিয়ে আসার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

নিহত আবিরের বড় বোন আয়েশা খাতুন বলেন, আবীর হোসেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্রাজুয়েট গবেষণা সহকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের লামার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। সেখানে তিনি তার স্ত্রী ও তিন বছরের কন্যা সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। আবিরের মা, স্ত্রী ও তিন বছরের শিশু সন্তান রয়েছে তাদের দেখাশোনা করার জন্য ক্ষতিপূরণ ও ভাই হত্যার অতি দ্রুত বিচার দাবি করেন সরকারের কাছে।
নিহত আবিরের মেজভাই জাকির হোসেন বলেন, অন্য দেশের আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি নাক গলায় আমেরিকা। সেই আমেরিকার মতো একটা দেশে পড়তে যাওয়া আমার ভাইকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে। সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী হত্যায় জড়িত থাকা সন্দেহে দুইজনকে আটক করে একজনকে ছেড়ে দিয়েছে। কোন হয়রানি ছাড়াই আবিরের মরদেহ অতি দ্রুত ফেরত ও আবীর হত্যার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের শাস্তির দাবি জানান তিনি ও তার পরিবার।
প্রতিবেশী শেখ মনিরুল ইসলাম বলেন, গত শনিবার ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় সকাল নয়টায় ‘ক্রিস ফুড মার্ট’ নামে একটি কফিশপে পার্টটাইম চাকরি করা কালীন দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন আবির। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আবিরের মৃত্যুর ঘটনা জেনেছেন। মৃত দেহটি অতি দ্রুতই ফিরে পেলে তার নিজ বাড়ি কলারোয়ার ঝাঁপাঘাট গ্রামের শেখ পাড়ায় দাফন করা হবে বলে প্রাথমিকভাবে জানান তিনি।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।