বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
‘আমাদের কোনো ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ফ্যাসিবাদ যেন পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ না পায়’
‘আমাদের কোনো ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ফ্যাসিবাদ যেন পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ না পায়’

‘আমাদের কোনো ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ফ্যাসিবাদ যেন পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ না পায়’

নতুন সূর্য ডেস্ক:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আপনাদের, আমাদের, আমাদের সকলের কোনো আবেগতাড়িত কিংবা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে ভবিষ্যতে আর যাতে কোনো চরমপন্থা কিংবা ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ না পায়, সে ব্যাপারে আপনাদের সতর্ক এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদান ও শহীদদের স্মরণে এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আজ শনিবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আয়োজনে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই সভা হয়।

সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, গণঅভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভূমিকা এবং আন্দোলন পরবর্তী বর্তমান যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, এখানে কম বেশি যারা আলোচনা করেছেন তাদের আলোচনায় বিষয় গুলি ফুটে উঠেছে। বক্তব্যের শুরুতেই আমি জুলাই-আগস্টের গণ অভ্যুত্থানে শহীদ, আহত এবং যারা এখনো চিকিৎসাধীন আছেন তাদের প্রত্যেকের অবদানকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে দৃঢ়ভাবে একটি কথা বিশ্বাস করি, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে জনগণের হৃদয়ে স্মরণীয়, বরণীয় হয়ে রয়েছেন এবং থাকবেন, ঠিক একইভাবে, ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে শহীদরাও আজীবন জনগণের হৃদয়ে স্মরণীয়, বরণীয় হয়ে থাকবেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ভাই ও বোনেরা, কোটা সংস্কার এবং ফ্যাসিবাদী পতনের দাবিতে গত বছর গণঅভ্যুত্থানের ঠিক এই সময়টি ছিলো অত্যন্ত উত্তাপ।

তিনি বলেন, সেদিন এই সময় রক্তে রঞ্জিত হয়ে উঠেছিল ক্যাম্পাস, রঞ্জিত রক্তে রঞ্জিত হয়ে উঠেছিল রাজপথ। সেই সময়ে আমার একটি উপলব্ধির কথা, গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির এই অনুষ্ঠানে, আজ আমি আপনাদের সাথে আপনাদের সামনে শেয়ার করতে চাই। রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে বাসিন আখরামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একই দিনে কমপক্ষে ৬ জন শহীদের আত্মদানের মাধ্যমে ১৬ জুলাই থেকে মাফিয়া সরকারের পতন ঘণ্ঠা বেজে উঠেছিল। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও, ১৬  জুলাইয়ের পর থেকে মূলত কিন্তু আন্দোলন আর কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। ঘর ভরা যেই মানুষগুলো আজ এখানে উপস্থিত আছেন, কম বেশি সকলেই আপনারা সেই দিনের সাক্ষী ছিলেন। সারাদেশে স্ফুলিঙ্গের মতন ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন দমন করতে, তৎকালীন মাফিয়া সরকার বেপরোয়া হত্যা আর নির্মম দমন-পীড়ন চালাতে শুরু করেছিল।

তারেক রহমান বলেন, সেই মাফিয়া সরকারের গুলি- বন্দুকের ভয়কে উপেক্ষা করে, বিশেষ করে, ১৮ জুলাই থেকে দল-মত নির্বিশেষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রীরা যেভাবে রাজপথে সাহসের সঙ্গে নেমে এসেছিলেন, যেভাবে রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে, সেদিন থেকেই আমার চূড়ান্ত বিশ্বাস জন্মেছিল, যে মাফিয়া সরকারের পতন এখন শুধুমাত্রই সময়ের ব্যাপার। এবং সেই উপলব্ধি এবং বিশ্বাস থেকেই ছাত্র জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনকে ফ্যাসিস্ট পতনের এক দফা আন্দোলনে পরিণত করে ফ্যাসিস্টের পতন নিশ্চিত করতে, বিএনপিসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক দলগুলোর পরিকল্পনা এবং কৌশল অবলম্বন করেছিল দলগুলো। তবে কোটা সংস্কারের পথ ধরে ফ্যাসিস্ট পতনের আন্দোলনে বিএনপির সম্পূর্ণ সহযোগিতা এবং সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। কারণ, কোটা সংস্কারের বিষয়টি বিএনপির কর্মপরিকল্পনায় অনেক আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত ছিল। আপনাদের হয়তো কারো কারো স্মরণ আছে। তারপরেও আমি বলতে চাই, ২০১৪ সালে ১৫ জুলাই লন্ডনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায়, আমি সেদিন কিছু বিষয় বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলাম। সেই অনুষ্ঠানেই সেই বক্তব্যে তখন আমি বলেছিলাম, স্বাধীনতার এত বছর পরেও সরকারি চাকরিতে ৫৬% কোটা পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।