Sunday, 2nd August 2026

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
কয়রায় ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, ঝুঁকিতে ২২ হাজার ৮০৬ শিক্ষার্থীর পাঠদান
কয়রায় ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, ঝুঁকিতে ২২ হাজার ৮০৬ শিক্ষার্থীর পাঠদান

কয়রায় ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, ঝুঁকিতে ২২ হাজার ৮০৬ শিক্ষার্থীর পাঠদান

 

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:বিএম আলামিন ইসলাম

উপকূলীয় উপজেলা খুলনার কয়রায় সরকারি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ জনবল সংকটে ভুগছে। প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগ না হওয়ায় উপজেলার অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে। এতে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও পাঠদানের ভার একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে ব্যাহত হচ্ছে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা কার্যক্রম। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে উপজেলার প্রায় ২২ হাজার ৮০৬ জন শিক্ষার্থীর ওপর।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়রায় মোট ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৮৫টি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই, যা মোট বিদ্যালয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের ৪২টি পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
শূন্য থাকা ৮৫টি প্রধান শিক্ষক পদের মধ্যে মাত্র ১৬টিতে চলতি দায়িত্বে শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকেরাই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
ফলে একজন সহকারী শিক্ষককে একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা, সরকারি দাপ্তরিক কাজ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, শিক্ষক সমন্বয় ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক তদারকির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কয়রা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ এম শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন,
“একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত নেতৃত্বের মূল চালিকাশক্তি হলেন প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে এই পদগুলো শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের সার্বিক তদারকি ও শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
সংকট শুধু বিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ নয়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও রয়েছে তীব্র জনবল সংকট। অফিস সূত্রে জানা যায়, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ৫টি পদের মধ্যে ৩টি শূন্য। এছাড়া অফিস সহকারীর ৪টি পদই দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সীমিত কর্মী নিয়ে তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকর বলেন,
“২০১৩ সালে সর্বশেষ সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও মামলা চলমান থাকায় নতুন নিয়োগ ও পদায়ন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। এটি শুধু কয়রার নয়, জাতীয় পর্যায়ের একটি সমস্যা। দ্রুত এ সংকটের সমাধান না হলে মাঠপর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”
স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, উপকূলীয় এই জনপদের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের শূন্য পদগুলো পূরণ করে তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় জনবল সংকটের কারণে শিক্ষার মান আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, “সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা” নিশ্চিত করতে হলে বিদ্যালয়ে দক্ষ নেতৃত্ব, পর্যাপ্ত শিক্ষক এবং কার্যকর প্রশাসনিক তদারকির কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সংকট দ্রুত নিরসন না হলে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো শিশুর শিক্ষাজীবন দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।