Monday, 3rd August 2026

কলারোয়ায় ড্রাগন ফল চাষে সফল মাসুম
কলারোয়ায় ড্রাগন ফল চাষে সফল মাসুম

কলারোয়ায় ড্রাগন ফল চাষে সফল মাসুম

শামসুর রহমান লালটু:

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বানিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন উদ্যোক্তা মাসুম হোসেন। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে, তেমনি জেলা জুড়ে অন্যদের মধ্যে ড্রাগন চাষে উৎসাহ জাগিয়েছে।

মাসুম ২০০৩ সালে জামালপুর থেকে এসে কাজীরহাট বাজারে বইয়ের দোকান করে। সেই ব্যবসার পাশাপাশি ২০২৪ সালে প্রায় ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি ১০ বিঘা জমির উপর গড়ে তোলেন ড্রাগণ ফলের বাগান। গত বছর এই বাগান থেকে ১৪ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়েছিলো বলে জানান মাসুম। চলতি বছর ইতি মধ্যে ৪ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছে এবং পুরো মৌসুম শেষে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন তিনি।

প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ বাগান দেখতে ও ফল কিনতে এই বাগানে আসছেন। কাজীরহাট,কলারোয়া, সাতক্ষীরা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তার বাগান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে খুচরা ও পাইকারি হারে ড্রাগন ফল।

বাগানটিতে ৪ জন লোক নিয়মিত ফল সংগ্রহের পাশাপাশি বাগানে ১২ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। ড্রাগন গাছে ফুল ফোটে রাতে। মাছি, মৌমাছির দ্বারা পরাগায়ন হয়। এ ছাড়া কৃত্রিম পরাগায়ন করা যায়। গাছ গুলো ধরে রাখতে সিমেন্টের খুটির সাথে তুলে দিতে হয়। উপরের দিকে ধরে রাখার জন্য জিআই তার টানাতে হয়। ড্রাগনগাছ লাগানোর ১০ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যায়। বেলে দোআঁশ মাটিতে ড্রাগন চাষ ভালো হয়। এপ্রিল থেকে জুন মাসে ফুল আসে। ফুল আসা থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে খাওয়ার উপযোগী হয়। অক্টোবর মাস পর্যন্ত ফুল ফোটা এবং ফল ধরা অব্যহত থাকে বলে জানান মাসুম। একটি ফল ২শ গ্রাম থেকে ৮শ গ্রাম পর্যন্ত ওজন হয়ে থাকে। একটি পুর্নাঙ্গ গাছ থেকে ৪৫ থেকে ৯০ টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। সরেজমিনে মাসুমের ড্রাগন বাগানে যেয়ে দেখা যায় সিমেন্টের পিলারে পিলারে সারিবদ্ধ গাছ গুলোতে ড্রাগনফল ধরে আছে যা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়।

বাগান দেখতে আসা ইব্রাহীম হোসেন জানান আমরা বাজার থেকে ড্রাগনফল ক্রয় করি সেটা বাগান থেকে ক্রয় করলাম। ফলটি খুবই সুস্বাধু। উদ্যোক্তা মাসুম জানান ড্রাগনফল দীর্ঘমেয়াদী আবাদ। এটি লাভজনক চাষাবাদ। বাগান তৈরিতে প্রথম একটু খরচ হলেও পরে খরচ কম। অন্যান্য ফসলে যেমন সবসময় যতœ নিতে হয় সার কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় ড্রাগন চাষে সেটা করতে হয় না। সামান্য পরিচার্যা করতে পারলে ড্রাগন ফল চাষ করা সম্ভব।

উপজেলা কৃষি অফিসার এস,এম এনামুল ইসলাম জানান, কলারোয়া উপজেলায় ৫.৫ হেক্টর জমিতে ডিমরোজ জাতের ড্রাগন আবাদ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ২৩ মে.টন ফলন হয় বলে তিনি জানান। কৃষি অফিস নিয়মিত ড্রাগন চাষীদের সহযোগীতা প্রদান করছে।

ড্রাগন ফল চাষে মাসুম হোসেন এই সাফল্যতা প্রমান করে, পরিকল্পিত ভাবে কাজ করলে কৃষি খাতে নতুন সম্ভবনার দ্বার উন্মেচন করা সম্ভাব। মাসুমের এই উদ্যোগ নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য একটি অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

 

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি থেকে বিরত থাকুন,ধন্যবাদ।