এস,এম মোস্তাফিজুর রহমান,আশাশুনি:
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় ১০০ মিটার বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন আপাতত শঙ্কামুক্ত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়রা বাঁধ সুরক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে আকস্মিক ভাবে বাঁধের বড় একটি অংশ প্রায় ৮০ ফুট নদীতে চলে যায়। মঙ্গলবার থেকে আরও ২০ ফুট মত ফাটল দেখা দেওয়ায় জনমনে শঙ্কার সৃষ্টি হয়।
বাঁধা ভাঙ্গার পর তাৎক্ষণিক ভাবে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওঃ রিয়াছাত আলী ও ইউনিয়ন আমির মাওঃ ওহিদুজ্জামান স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে বাঁধ রক্ষায় ঝাপিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বিএনপি ও ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষে লোকজন বাঁধ রক্ষায় একসাথে যোগ হয়।
চার শতাধিক মানুষ সারাদিন মাটি ও বস্তায় মাটি ভরে বাঁধ রক্ষায় কাজ করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ৩০ ফুট লম্বা ও ১৬ ফুট গোলাকার জিও টিউবে বালি ভরে বাঁধের পাশে ফেলে রক্ষার কাজ করা হয়। কিন্তু সোমবার গভীর রাতে জোয়ারের পানিতে বাঁধের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে আবারও শত শত মানুষ বাঁধ রক্ষায় ঝাপিয়ে পড়েন। রাত দেড়টা পর্যন্ত বিরতিহীন কাজ করে ভাঙ্গন রোধ করা হয়।
প্রতাপনগর ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের প্রায় ৬ হাজার বিঘা মাছের ঘের ও ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা ও ২৫ সহস্রাধিক মানুষ ঘরবাড়িসহ সর্বশ্ব ভেসে যাওয়ার শঙ্খায় সারারাত জেগে কাটিয়েছেন।
এসিল্যান্ড মিঠুন মৈত্র ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। ভাঙনের ভয়াবহতা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন,জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে ভাঙন সরেজমিনে পরিদর্শন করতে এসেছি। বাঁধের যে অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে,সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ সময় পাউবো’র এসডিই রাশিদুজ্জামান,উপজেলা জামায়াতের আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার,নায়েবে আমির মাওঃ নুরুল আফসার মুর্তজাসহ জামায়াত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তারা ভাঙনস্থলের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে স্থানীয়রা মাটিদ্বারা বস্তার ফাঁক বন্ধ করার কাজ করেন। এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৭/১৮টি টিউব পাইপ দিয়ে বাঁধকে সুরক্ষায় কাজ করেন। সারাদিন কাজের পর ভাঙ্গনস্থানের বাঁধ শঙ্কামুক্ত হয়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গন স্থানের পিছনে রিং বাঁধে বস্তা ডাম্পিং করে কাজ করছে।
পাউবো’র এসডিই রাশিদুল ইসলাম জানান,সোমবার সারাদিন ও সারারত বাঁধ রক্ষায় কাজ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সারাদিন বস্তা ডাম্পিং করে বাঁধ রক্ষার কাজ করা হয়। এখন বাঁধটি আপাতত শঙ্কামুক্ত হয়েছে। পিছনে রিং বাঁধের কাজ চলমান আছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আমরা আশা করছি।
সাতক্ষীরা পাউবো’র বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহমান তাজকিয়া বলেন, জোয়ারের চাপে ঐ পয়েন্টে ধস নেমেছিল। সেখানে বস্তা ডাম্পিংয়ের পাশাপাশি জিও টিউব ব্যবহার করে বিকল্প বাঁধ তৈরির কাজের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। বর্তমানে বাঁধটি শঙ্কামুক্ত হয়েছে।
