
তাপস কুমার ঘোষ, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাঁশতলা বাজারে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ভিআইপি ফ্যাশন নামের একটি পোশাকের দোকানের মালামাল নেওয়াকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। দোকান থেকে মালামাল লুটের অভিযোগ করেছেন দোকান মালিক মো. ইমরান হোসেন। অন্যদিকে, পাওনাদার আলমগীর হোসেনের দাবি, পাওনা টাকা আদায়ের সমঝোতার অংশ হিসেবেই দোকান থেকে মালামাল নেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশি সহযোগিতায় উদ্ধার করা মালামাল স্থানীয় এক বিএনপি নেতার জিম্মায় রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০ টার সময়ে সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাঁশতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। তবে মালামাল নেওয়ার প্রকৃত কারণ, এর পরিমাণ ও ঘটনার আইনগত দিক নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে বিরোধ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের নীলকণ্ঠপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ গাজীর ছেলে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে ফতেপুর গ্রামের শওকাত কারিগরের ছেলে মো. ইমরান হোসেনের (২৩) বিকাশের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের পরিচয় ও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়।বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রথমে স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে আলমগীর হোসেনের দাবি, ওই বৈঠকে সমস্যার সমাধান হয়নি। পরে তিনি বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত আবেদন করেন। এরপর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও মালামাল নেওয়ার দাবি আলমগীর হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতার উদ্যোগের একপর্যায়ে ইমরান হোসেন পাওনা টাকা পরিশোধে সম্মত হয়ে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা পরিশোধ নিয়ে জটিলতা থেকে যায়।পরবর্তী সময়ে নগদ টাকা পরিশোধের পরিবর্তে দোকানের মালামাল দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে দাবি করেন আলমগীর হোসেন। তাঁর দাবি, এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিওচিত্র রয়েছে, যেখানে দোকান থেকে প্রায় তিন লাখ টাকার মালামাল নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। তবে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরের বিষয়বস্তু, মালামাল নেওয়ার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সম্মতি ছিল কি না, ভিডিওচিত্রের প্রেক্ষাপট এবং মালামালের প্রকৃত মূল্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।অন্যদিকে, দোকান থেকে মালামাল লুটের অভিযোগে ইমরান হোসেন কালিগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগের পর পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে কালিগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় আলমগীর হোসেনের বাড়ি থেকে অভিযোগে উল্লেখ করা মালামাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মালামাল দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড়ের জিম্মায় রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।আলমগীর হোসেনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা আদায়ের চেষ্টা করেও তিনি সমাধান পাননি। এ নিয়ে তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পাওনা টাকা আদায়ের বিরোধকে কেন্দ্র করে দোকানের মালামাল নেওয়ার ঘটনায় এক পক্ষের লুটের অভিযোগ এবং অন্য পক্ষের পাওনা টাকার বিপরীতে মালামাল নেওয়ার দাবি,দুই বিষয়ই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ, স্ট্যাম্পের শর্ত, সালিশের সিদ্ধান্ত, ভিডিওচিত্র, মালামালের তালিকা ও মূল্য এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।এ ধরনের বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে প্রচলিত আইন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং উভয় পক্ষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমরান হোসেনের ব্যবহারিত মোবাইল ফোনে বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করিলে ফোন নাম্বারটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।