শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১

কেঁড়াগাছির চেয়ারম্যান হাবিলের বিরুদ্ধে এবার এলজিএসপি’র কাজে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
কেঁড়াগাছির চেয়ারম্যান হাবিলের বিরুদ্ধে এবার এলজিএসপি’র কাজে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

কেঁড়াগাছির চেয়ারম্যান হাবিলের বিরুদ্ধে এবার এলজিএসপি’র কাজে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তা ও ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় মোট ১৭৪৫ টি কার্ডের তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগের পর এবার এলজিএসপি-৩ এর বরাদ্দকৃত স্কিম সমূহ বাস্তবায়নে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে- কলারোয়া উপজেলার কেঁড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম আফজাল হোসেন হাবিলের বিরুদ্ধে ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কলারোয়া উপজেলার ৫ নং কেঁড়াগাছি ইউনিয়নে ২০২০- ২০২১ অর্থ বছরে এলজিএসপি- ৩ এর আওতায় বরাদ্দকৃত অর্থে ০৯ টি স্কিম বাস্তবায়নের তোড়জোড় চলছে,কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী ইউপি সদস্যদের থেকে কোনো স্কিম নেয়া হয়নি । এমনকি ঐ কর্মকাণ্ড প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কোনো রেজুলেশনের ও করা হয়নি বলেও অভিযোগে জানা যায়। চেয়ারম্যান হাবিল ইতিপূর্বে নির্মিত ইটের সলিংকৃত রাস্তার অনুকূলে নতুন করে প্রকল্প তৈরি করেছেন । কিছু কিছু সলিং রাস্তা থেকে ইট বালু উঠিয়ে অন্যত্র ব্যাবহার করা হচ্ছে । এই অর্থ বছরে গৃহীত প্রকল্প সমূহের মধ্যে রয়েছে অনেক অপ্রয়োজনীয় ও মনগড়া প্রকল্প। যা তার ব্যাক্তিগত ও নির্বাচনী স্বার্থে প্রণীত হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারনা।

বিগত অর্থ বছর সমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে এলজিইডি এলজিএসপি টি আর কাবিখা বাস্তবায়নে কল্পনা প্রসূত প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রকল্পই এখনো আলোর মুখ দেখেনি ।

সরকারি উন্নয়ন মূলক কার্যক্রম নিজ নির্বাচনী কর্মীদের মাঝে একচ্ছত্র বিতরন, বিভিন্ন সরকারি সুবিধা প্রদানে নগদ অর্থের লেনদেনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে নতুন কিছু নয়! ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা বিধিমালার কোনো তোয়াক্কা না করে, ইউপি সদস্যদের সাথে কোনোরূপ আলোচনা ও মতামত না নিয়ে তিনি ঐ সব প্রকল্প প্রণয়ন করেছেন বলে অভিযোগ সূত্রে আরো জানা গেছে। যে জন্য ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা ইউনিয়ন পরিষদ ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,৫নং কেঁড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম আফজাল হোসেন হাবিল, গত ৫ বছর যাবত ইউনিয়ন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচিত ইউপি সদস্যদের বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করেন নি। সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে তিনি তার নির্বাচনী কর্মীদের উপর নির্ভরশীল ছিলেন।

এ ব্যাপারে ঐ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য- আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম গাজী, ইয়ার আলী,মহিদুল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম, সেলিনা মাওলা, রনজিলা খাতুন রুবিনা খাতুন জানান- আমরাও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কিন্তু আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম আফজাল হোসেন হাবিল আমাদের বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করেন না। সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে তিনি আমাদের মতামত ও পরামর্শের প্রয়োজন মনে করেন না। আমাদের না জানিয়ে চলমান ২০- ২১ অর্থ বছরে এলজিএসপি-৩ এর স্কিম প্রণয়নের জন্য প্রকল্পপত্র জমা দিয়েছেন। আমরা এ ব্যাপারে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে জানিয়েছি । ঐ চেয়ারম্যান হাবিল আমাদের সাথে নূন্যতম সৌজন্যতা বজায় রাখেন না। কিছু দিন আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সম্মুখে আমাদের চরম অসম্মান, গালিগালাজ ও হুমকি দেন।

তিনি সরাসরি উন্নয়ন মূলক কার্যক্রম শুধুমাত্র তার নির্বাচনী কর্মীদের মধ্যে বন্টন করেন। তার এক এক জন কর্মী একাধিক সুযোগ সুবিধা ও ভাতার কার্ড ভোগ করছে।
এজন্য আমরা মাননীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ করেছি যেন সরকারি প্রকল্প সমূহের সুষ্ঠ বন্টন ও বাস্তবায়ন হয়।
এ ব্যাপারে জানতে ৫ নং কেঁড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম আফজাল হোসেন হাবিল’র মুঠো ফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কলারোয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ নাজিমুল হক বলেন- এ ব্যাপারে আমি মাননীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় থেকে চিঠি পেয়েছি। আমাকে বিষয়টির তদন্তের ভার দেয়া হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি আমি ঐ ইউপি চেয়ারম্যানকে তদন্তের তারিখ জানিয়ে দেবো।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, এলজিএসপি সংশ্লিষ্ট যে অভিযোগটি পেয়েছি, সেটি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দিয়েছি।

এ দিকে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প যেন জনপ্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে ও পরিপূর্ণ জনকল্যাণে বাস্তবায়িত হয় তার জন্য বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয়দের।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *