
তাপস কুমার ঘোষ, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় সকলের অংশ গ্রহণ, আমাদের সমাজে প্রবীণদের অবদানের স্বীকৃতি এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে কালিগঞ্জ উপজেলা প্রবীণ কল্যাণ সংস্থা (সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন)-এর আয়োজনে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তর কালিগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে উত্তর কালিগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।কালিগঞ্জ উপজেলা প্রবীণ কল্যাণ সংস্থা (সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন)-এর সভাপতি গাজী আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক সুকুমার দাশ বাচ্চুর সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য ডাক্তার আব্দুল কাদের।এ সময় বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম মমতাজ হোসেন মন্ট, অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ, কবি আলী সোহরাব, সাংবাদিক শেখ আনোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, ইলাদেবী মল্লিক, শান্তি চক্রবর্তী, ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতলেবুর রহমান, অ্যাডভোকেট জাফরুল্লাহ ইব্রাহিম, সাংবাদিক এস এম আহমাদুল্লাহ বাচ্চুসহ অনেকে।দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রবীণরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তাদের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়নের পাশাপাশি জীবনের শেষ সময়ে তাদের নিরাপত্তা, সম্মান, মর্যাদা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবীণদের অধিকার ও প্রাপ্য সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।বক্তারা বলেন, ১৯৮২ সালে ভিয়েনায় বিশ্ব প্রবীণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভিয়েনা আন্তর্জাতিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৯১ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।সভায় বক্তারা আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এ অবস্থায় প্রবীণদের অধিকার, মর্যাদা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে তাদের যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রবীণদের প্রতি যেকোনো ধরনের অবহেলা ও নির্যাতন প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রবীণরা কবিতা আবৃত্তি, গান পরিবেশন এবং নিজেদের বাল্যকালের স্মৃতিচারণ করেন। এতে অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন ও আনন্দমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।