দৈনিক নতুন সূর্য ডেস্ক:ইতালিতে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাবা-মা-বোনের মরদেহ নিয়ে দেশে ফিরল বেঁচে যাওয়া অয়নইতালির রাজধানী রোমে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের একই পরিবারের তিন বাংলাদেশির মরদেহ দেড় মাস পর দেশে ফিরেছে। শুক্রবার বিকেলে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরে বাদ মাগরিব জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়।নিহতরা হলেন চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল, তাঁর স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা।একই ঘটনায় গুরুতর আহত তাঁদের একমাত্র ছেলে অয়নও শুক্রবার দেশে ফিরে জানাজা ও দাফনে অংশ নেন।শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিহত তিনজনের মরদেহ পৌঁছায়। পরে স্বজনরা সেগুলো কোম্পানীগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে এক নজর দেখতে সকাল থেকেই অপেক্ষায় থাকা হাজারো মানুষ ভিড় করেন।শুক্রবার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে কামাল উদ্দিন বাবুল, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে দাফন করা হয়।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রোমের পাশের ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বাবুল, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।একই সময় গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের ছেলে অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।গত ১১ আগস্ট ইতালির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার পিয়াজ্জা ওর্মেয়ায় নিহত তিনজনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়।এদিকে ঘটনার ১ মাস ১৯ দিন পার হলেও প্রধান সন্দেহভাজন শাহাদাত হোসেনকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। শাহাদাত নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এবং চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল আহাদের ছেলে।গত ২৭ জুন ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শাহাদাত হোসেনকে হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর ছবি প্রকাশ করে। তাঁর বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে রোম কোয়েস্টের মোবাইল টিমে জানাতে অনুরোধ করা হয়।নিহত বাবুলের চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট ইউনুস বলেন, ইতালিতে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে তাঁরা হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন। দেশে এলে বাবুল সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। এমন নির্মম ঘটনায় তাঁরা বাকরুদ্ধ। শাহাদাতকে এখনো আইনের আওতায় না আনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে ইতালিয়ান পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।এর আগে ২০২৫ সালের ২ জুলাই চরকাঁকড়া ইউনিয়নে তাঁদের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি কথিত ডাকাত দলের নামে একটি উড়ো চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে পরিবারটির কাছে টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না করলে ছেলে ও নাতিকে হত্যাসহ পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে স্বজনেরা অভিযোগ করেন। পরে নিরাপত্তাশঙ্কার কথা জানিয়ে নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম কোম্পানীগঞ্জ থানা ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।নিহত বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে দেশে ছুটিতে এসে কবরস্থানে মাটি ফেলেছে। সেখানেই তাকে স্ত্রী-সন্তানসহ দাফন দেওয়া হলো। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমি বিচার চাই।